Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
কলকাতা : শুক্রবার দুপুরের ব্যস্ত সময়। কেউ অফিসে, কেউ স্কুল-কলেজে, কেউ বা বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। ঠিক সেই সময় আচমকাই কেঁপে উঠল কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। দুপুর ১টা ২২ মিনিট নাগাদ হঠাৎ করেই অনুভূত হয় ভূমিকম্পের কম্পন। প্রথমে অনেকেই বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেননি। কেউ ভেবেছেন মাথা ঘুরছে, কেউ মনে করেছেন হয়তো পাশের ঘরে ভারী কিছু পড়েছে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়— এটি কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, এটি ভূমিকম্প। প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড স্থায়ী হয় এই কম্পন। বহুতল ভবনের বাসিন্দারা স্পষ্টভাবে দুলুনি অনুভব করেন। অনেক জায়গায় ফ্যান ও লাইট কাঁপতে দেখা যায়, আলমারির দরজা দুলতে থাকে, জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে বহু মানুষ তড়িঘড়ি সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসেন রাস্তায়। কেউ মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে শুরু করেন, কেউ আবার খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করেন। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত—সল্টলেক, নিউ টাউন, গড়িয়া, যাদবপুর, বেহালা, শ্যামবাজার— সর্বত্রই কম্পন টের পাওয়া যায়। শুধু কলকাতা নয়, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি এবং সুন্দরবন এলাকার বিস্তীর্ণ অংশেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে খবর। দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সর্বত্রই মানুষ এই কম্পন টের পান। বহু জায়গায় অফিসের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং কর্মীদের বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল প্রায় ৫.০। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ মাত্রার ভূমিকম্প মাঝারি শক্তির হলেও, যদি এর উৎসস্থল তুলনামূলকভাবে অগভীর হয়, তাহলে কম্পন বেশ স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। জানা গিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎস। মূল এপিসেন্টার ছিল টাকি থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে, সাতক্ষীরার অভ্যন্তরে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশে হওয়ায় সেখানেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। রাজধানী ঢাকা সহ একাধিক এলাকায় মানুষ দুলুনি টের পান। সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে খবর। অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা পোস্ট করেন— কোথাও সিলিং ফ্যান দুলছে, কোথাও টেবিল কাঁপছে, কোথাও আবার অফিসের কর্মীরা একসঙ্গে বাইরে বেরিয়ে এসেছেন।
যদিও প্রাথমিকভাবে কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, তবুও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বহু মানুষই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন— আবার কি বড় কোনও কম্পনের আশঙ্কা রয়েছে? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আপাতত বড় ধরনের ক্ষতির খবর না পাওয়া গেলেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। ভূমিকম্পের পর আফটারশকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যদিও তা সবসময় ঘটে না। ভূমিকম্প কেন হয়? পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ বিভিন্ন টেকটোনিক প্লেটে বিভক্ত। এই প্লেটগুলি একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বা সরে যায়। সেই সঞ্চিত শক্তি হঠাৎ মুক্তি পেলে সৃষ্টি হয় ভূমিকম্প। ভারতীয় প্লেট এবং ইউরেশীয় প্লেটের পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে এই উপমহাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্গত। পূর্ব ভারত এবং বাংলাদেশ সংলগ্ন অঞ্চল বিশেষত ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫.০ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত বড় ধরনের ধ্বংস ডেকে আনে না, তবে পুরনো বা দুর্বল নির্মাণে ফাটল দেখা দিতে পারে। তাই ভবন নির্মাণে সঠিক নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। বহুতল ভবনে বসবাসকারীদের জন্য ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। আতঙ্কিত না হয়ে খোলা জায়গায় যাওয়া, লিফট ব্যবহার না করা, এবং মাথা সুরক্ষিত রাখা— এই মৌলিক সতর্কতাগুলি মেনে চলা উচিত। শুক্রবারের এই কম্পন অনেককেই পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে। অতীতে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যদিও বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে, তবুও প্রতিবারই আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে বহুতল সংস্কৃতির এই শহরে ভূমিকম্পের কম্পন অনেক বেশি অনুভূত হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত কোথাও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। বিভিন্ন দফতর পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দলগুলিকে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্কুল, অফিস ও আবাসনে নিয়মিত মক ড্রিল করা হলে বিপদের সময় আতঙ্ক কমানো সম্ভব। ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে। সব মিলিয়ে বলা যায়, শুক্রবার দুপুরের এই আচমকা ভূমিকম্প কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে দিয়েছিল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের স্বাভাবিক ছন্দ। যদিও বড় ধরনের ক্ষতির খবর নেই, তবুও প্রকৃতির এই অপ্রত্যাশিত শক্তির সামনে মানুষের অসহায়তাই যেন আরও একবার সামনে এল। সতর্কতা, সচেতনতা এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিই পারে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে আমাদের আরও প্রস্তুত করে তুলতে।
যদিও প্রাথমিকভাবে কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, তবুও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বহু মানুষই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন— আবার কি বড় কোনও কম্পনের আশঙ্কা রয়েছে? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আপাতত বড় ধরনের ক্ষতির খবর না পাওয়া গেলেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। ভূমিকম্পের পর আফটারশকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যদিও তা সবসময় ঘটে না। ভূমিকম্প কেন হয়? পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ বিভিন্ন টেকটোনিক প্লেটে বিভক্ত। এই প্লেটগুলি একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বা সরে যায়। সেই সঞ্চিত শক্তি হঠাৎ মুক্তি পেলে সৃষ্টি হয় ভূমিকম্প। ভারতীয় প্লেট এবং ইউরেশীয় প্লেটের পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে এই উপমহাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্গত। পূর্ব ভারত এবং বাংলাদেশ সংলগ্ন অঞ্চল বিশেষত ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫.০ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত বড় ধরনের ধ্বংস ডেকে আনে না, তবে পুরনো বা দুর্বল নির্মাণে ফাটল দেখা দিতে পারে। তাই ভবন নির্মাণে সঠিক নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। বহুতল ভবনে বসবাসকারীদের জন্য ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। আতঙ্কিত না হয়ে খোলা জায়গায় যাওয়া, লিফট ব্যবহার না করা, এবং মাথা সুরক্ষিত রাখা— এই মৌলিক সতর্কতাগুলি মেনে চলা উচিত। শুক্রবারের এই কম্পন অনেককেই পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে। অতীতে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যদিও বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে, তবুও প্রতিবারই আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে বহুতল সংস্কৃতির এই শহরে ভূমিকম্পের কম্পন অনেক বেশি অনুভূত হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত কোথাও বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। বিভিন্ন দফতর পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দলগুলিকে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্কুল, অফিস ও আবাসনে নিয়মিত মক ড্রিল করা হলে বিপদের সময় আতঙ্ক কমানো সম্ভব। ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে। সব মিলিয়ে বলা যায়, শুক্রবার দুপুরের এই আচমকা ভূমিকম্প কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে দিয়েছিল কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের স্বাভাবিক ছন্দ। যদিও বড় ধরনের ক্ষতির খবর নেই, তবুও প্রকৃতির এই অপ্রত্যাশিত শক্তির সামনে মানুষের অসহায়তাই যেন আরও একবার সামনে এল। সতর্কতা, সচেতনতা এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিই পারে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে আমাদের আরও প্রস্তুত করে তুলতে।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
