Log in

দুর্গাপুর : দুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর কেনাকাটা। আর পুজো যত এগিয়ে আসছে, ততই বাজার, শপিং মল এবং বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্রে বাড়ছে মানুষের ভিড়। উৎসবের দিনগুলিতে এই ভিড় আরও কয়েক গুণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পুজোর আগেই বড় শপিং মলগুলির অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে দমকল বিভাগ। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের একটি বহুজাতিক শপিংমলে দমকল বিভাগের উদ্যোগে চালানো হয় বিশেষ ‘ফায়ার অডিট’। সকাল থেকেই মলের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন দমকল আধিকারিকরা। খতিয়ে দেখা হয় মলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিকাঠামো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে বের করে আনার ব্যবস্থা। দমকল আধিকারিকরা প্রথমেই পরীক্ষা করেন মলের অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামগুলি। কোথায় কী ধরনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না এবং বিপদের সময় দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব হবে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি পরীক্ষা করা হয় ফায়ার অ্যালার্ম ব্যবস্থা। কোনও অংশে আগুন লাগলে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছচ্ছে কি না, সেই বিষয়টিও পরিদর্শনের আওতায় ছিল। মলের বিভিন্ন অংশে থাকা ওয়াটার স্প্রিংকলার ব্যবস্থাও পরীক্ষা করে দেখা হয়। আগুন লাগার প্রাথমিক পর্যায়ে যাতে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেই ব্যবস্থাগুলি কার্যকর রয়েছে কি না, তা বিশেষভাবে দেখা হয়। শুধু অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম থাকলেই যে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় এই ফায়ার অডিটে। জরুরি পরিস্থিতিতে মলের ভিতরে থাকা বিপুল সংখ্যক মানুষ কীভাবে দ্রুত এবং নিরাপদে বাইরে বেরিয়ে আসবেন, তার জন্য থাকা একাধিক এক্সিট পয়েন্ট এবং জরুরি সিঁড়িগুলিও পরীক্ষা করেন দমকল আধিকারিকরা। কোথাও বেরোনোর পথ বাধাগ্রস্ত রয়েছে কি না, জরুরি সময়ে সিঁড়িগুলি ব্যবহারযোগ্য থাকবে কি না, সেই বিষয়েও নজর দেওয়া হয়।

এদিনের পরিদর্শনে শুধু কাগজে-কলমে অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থার অস্তিত্ব যাচাই করেই থেমে থাকেননি দমকল আধিকারিকরা। বাস্তবে আগুন লাগার মতো পরিস্থিতিতে মলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তা বোঝার জন্য বিভিন্ন অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম আগুন জ্বালিয়ে পরীক্ষা করা হয়। অর্থাৎ জরুরি পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র যন্ত্রপাতি মজুত রয়েছে কি না, তা নয়, সেগুলি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব কি না, সেটিও সরেজমিনে যাচাই করা হয়। এই ধরনের বাস্তব পরীক্ষার মাধ্যমে অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব বলে মনে করছে দমকল বিভাগ। এর পাশাপাশি মলের অগ্নিসুরক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হয়। মলের কাছে বৈধ ফায়ার NOC রয়েছে কি না, সেই নথির পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা। অগ্নিসুরক্ষার ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং ব্যবস্থা বজায় রাখা হচ্ছে কি না, সেটিই ছিল এই পরিদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দমকল বিভাগের দাবি, জনবহুল এই শপিংমলে অগ্নিনিরাপত্তার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে। মলের বিভিন্ন অংশে রয়েছে একাধিক এন্ট্রি এবং এক্সিট পয়েন্ট। পাশাপাশি রয়েছে লিফট, ওয়াটার স্প্রিংকলার এবং অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। কোনও ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার মতো পরিকাঠামো মজুত রয়েছে বলেই জানান দুর্গাপুর দমকল বিভাগের স্টেশন অফিসার মনোজ কুমার দাস।

দুর্গাপুজোর সময় শপিং মলগুলিতে সাধারণত কেনাকাটার জন্য ব্যাপক ভিড় হয়। শুধু পুজোর কেনাকাটাই নয়, উৎসবের দিনগুলিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে শপিং মলে সময় কাটাতেও আসেন বহু মানুষ। ফলে কোনও দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে মলের ভিতরে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত থাকলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই আগুন লাগার ঘটনা এড়ানোর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সতর্কতা জারি এবং নিরাপদে মানুষকে বের করে আনার ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই পুজোর ভিড় শুরু হওয়ার আগেই শপিং মলগুলির অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে দমকল বিভাগ। দমকল সূত্রে খবর, পুজোর আগে বড় এবং জনবহুল শপিং মলগুলিতে অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোথাও কোনও ত্রুটি বা ঘাটতি নজরে এলে তা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। লক্ষ্য একটাই—উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদে কেনাকাটা এবং আনন্দ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা। দুর্গাপুজো মানেই উৎসব, আনন্দ এবং মানুষের ব্যাপক সমাগম। সেই সমাগমের কথা মাথায় রেখে আগুনের মতো বিপর্যয় মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুতি কতটা রয়েছে, তা নিশ্চিত করাই এই ফায়ার অডিটের মূল উদ্দেশ্য। দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের এই শপিং মলে বৃহস্পতিবারের পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে সেই প্রস্তুতিই আরও একবার খতিয়ে দেখল দমকল বিভাগ। পুজোর আগে শহরের অন্যান্য জনবহুল বিপণিকেন্দ্রগুলিতেও এমন নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেই জানা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *