৭ নম্বর ফর্ম জমা দিতে গিয়ে বিজেপি-তৃণমূল হাতাহাতি ! প্রতিবাদে ধর্ণায় বিজেপি !!

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
আসানসোল, জামুরিয়া : কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন পরিণত হয়েছে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে। বিজেপির কার্যালয় থেকে যেমন যেমন নির্দেশ দিচ্ছেন নেতানেত্রীরা, নির্বাচন কমিশনার সেইমতো এসআইআর- এর পদ্ধতি স্থির করছে। নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূলকে হারানো অসম্ভব বুঝেই এখন সাধারণ বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার এক বৃহত্তর চক্রান্ত শুরু করেছে বিজেপি। এবং তাদের সেই সুদূরপ্রসারী ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতেই বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৭ জমা দেওয়া হচ্ছে নির্বাচন কমিশনে। সোমবার এমনই অভিযোগ তুলে বিজেপির এই ঘৃণ্য চক্রান্তকে প্রতিহত করার জন্য পথে নামে তৃণমূল।সোমবার একটি কালো গাড়ি ভর্তি বিপুল সংখ্যক পূরণ করা সাত নম্বর ফর্ম বাজেয়াপ্ত করা হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে। তৃণমূলের পুরপিতা অশোক রুদ্র বলেন, সোজা পথে তৃণমূলকে হারাতে না পেরে ওরা এখন নির্বাচন কমিশনকে সাথে নিয়ে এই ধরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত শুরু করেছে। আসানসোল নগর নিগম এলাকার অসংখ্য বৈধ এবং জীবিত ভোটারকে অবৈধ এবং মৃত বলে চিহ্নিত করে তারা ওই ৭ নম্বর ফর্ম পূরণ করে সেগুলি জমা দিতে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-নেত্রীরা সেই ফর্ম গুলি দেখতে চান যে সেখানে সত্যিই মৃত ভোটার এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম নিয়েই আপত্তি তোলা হয়েছে কিনা! এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করতেই মুহূর্তেই সংঘর্ষের চেহারা নেয় আসানসোলের মহকুমা শাসক দপ্তর এলাকা। অশোক বাবু বলেন,তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিজেপির কার্যকর্তাদের কাছে ওই ফর্মগুলি দেখতে চাওয়াতেই তাঁরা মারমুখী হয়ে ওঠে তৃণমূলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁরা। এখান থেকেই বোঝা যায় কতখানি হিংসাত্মক, আক্রমনাত্মক ছিল তারা এবং কী উদ্দেশ্যে তারা সেই ফর্মগুলি নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে নিয়ে যাচ্ছিলেন! শাসক দলের তরফে অভিযোগ তোলা হয়, বিহারেও এই ভাবেই তারা প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। এ রাজ্যেও সেই একই রকম ভাবে তারা ভেবেছে পার পেয়ে যাবে। কিন্তু এখানে যে শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে সেটা বিজেপি বুঝতে পারেনি। Group of men involved in street altercation. তিনি বলেন, যদি অবৈধ ভোটার, অনুপ্রবেশকারী কাউকে চিহ্নিত করে তার নাম বাদ দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে তাঁরা কোনোভাবেই আপত্তি তুলবেন না।কিন্ত বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁরা তা বরদাস্ত করবেন না। তাতে প্রয়োজনে যতদূর যেতে হয় তাঁরা যাবেন। যদিও তৃণমূলের এই অভিযোগ মানতে চাননি আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, তৃণমূলের গুন্ডামির জন্য এদিন তারা সাত নম্বর ফর্ম জমা দিতে যেতে পারেননি। তিনি এই বিষয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন সারা রাজ্যে এইভাবে একটা অরাজকতার সৃষ্টি করতে। যাতে কোনোভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গাদের নাম বাদ না দেওয়া যায়। কারণ ওরাই হচ্ছে তৃণমূলের আসল ভোটার। ওদের গায়ে হাত পড়ছে দেখেই আজ তৃণমূলের এতখানি গায়ে লাগছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা ৭ নম্বর ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে পারছেন, ততক্ষণ তাঁরা ধর্ণা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন অগ্নিমিত্রা দেবী।দু পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনীকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসতে হয়।এদিন এই একই ছবি ধরা পড়ে পশ্চিম বর্ধমানের জামুরিয়াতেও। এদিন এই বিধানসভাতেও দিস্তা দিস্তা ৭ নম্বর ফর্ম জমা দিতে চান বিজেপি নেতাকর্মীরা। বিজেপি নেতা সন্তোষ সিংহের অভিযোগ, এদিন তাঁরা ৭ নম্বর ফর্ম জমা দিতে গিয়ে দেখেন বিডিও অফিসে আগে থেকেই লাঠিসোঁটা নিয়ে তৈরি রয়েছে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী। তারা বিডিও অফিসে পৌঁছতেই প্রবল আক্রোশে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তৃণমূলের ওই ভৈরব বাহিনী। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সিদ্ধার্থ রানার নির্দেশে বেশ কয়েকজন গুন্ডা বিজেপি কর্মীদের হাত থেকে ওই ৭ নম্বর ফর্ম গুলি ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ তোলেন সন্তোষবাবু। বিষয়টি তাঁরা নির্বাচন কমিশনেও জানাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জামুরিয়ার ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বিধায়ক হরেরাম সিং বলেন, বিজেপির গুন্ডারা তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের উপর লাঠি সোঁটা নিয়ে আক্রমণ চালিয়েছে। তাদের আক্রমণে দলের আট-দশ জন কর্মী আহত হয়েছেন। ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা জামুরিয়া থানায় একটি অভিযোগও জানিয়েছেন বলে দাবি করেন হরেরাম বাবু। তিনি বলেন, এখানকার অসংখ্য বৈধ ভোটারের নাম চক্রান্ত করে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বিজেপি। কিন্তু তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সজাগ থাকায় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিতে পাররনি বিজেপি। কারন তার আগেই ৭ নম্বর ফর্ম গুলি তাদের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়। সেখানে দেখা যায় অসংখ্য জীবিত ভোটারকেও মৃত বলে দাগিয়ে দিয়ে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে সাত নম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তৃণমূল সেই ঘৃণ্য চক্রান্তকে প্রতিহত করেছে বলেই বিজেপির এতখানি রাগ। বিধায়ক বলেন, এদিন পুলিশ না থাকলে তাদের দলের উপর আরও বড় হামলা করার চক্রান্ত করেছিল বিজেপির গুন্ডারা। সময়মতো পুলিশ এসে পড়ায় বড়সড় কারো কোনো ক্ষতি হয়নি।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram