মুর্শিদাবাদ : বেলডাঙা থানার মহেশপুর তাতলা পাড়া এলাকায় নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান। রবিবার সকালে বেলডাঙার বিধায়ক হাসানুজ্জামান ও দলের একাধিক নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিহত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডে কর্মরত আলাউদ্দিন শেখ নামে এক বাঙালি পরিচয় পরিযায়ী শ্রমিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগকে ঘিরে গত দু’দিন ধরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা এলাকা। ঘটনার প্রতিবাদে এবং উত্তেজনার জেরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে অশান্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ। এখনো গোটা এলাকা থমথমে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আজও চলছে পুলিশের রুট মার্চ। এই আবহে নিহত শ্রমিকের বাড়িতে পৌঁছে ইউসুফ পাঠান বলেন, “এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও মর্মান্তিক। পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অথচ তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে।” তিনি আরও জানান, পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও অধিকার নিয়ে তিনি আগেও সংশ্লিষ্ট মহলে চিঠি দিয়েছিলেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রশাসনের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানানো হবে বলে জানান তিনি।
নিহত আলাউদ্দিন শেখের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে ইউসুফ পাঠান বলেন, পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দল সর্বতোভাবে সহযোগিতা করবে। বিশেষ করে পরিবারের শিশুদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। তাঁর কথায়, “এই পরিবার একা নয়। আমরা সবাই তাঁদের পাশে আছি। ”এদিন বিধায়ক হাসানুজ্জামানও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের উপর চাপ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান তিনি। সব মিলিয়ে, অশান্ত বেলডাঙায় তৃণমূল নেতৃত্বের এই সফর পরিস্থিতি কিছুটা হলেও শান্ত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও পুলিশের টহল এখনো জারি রয়েছে, যাতে এলাকায় আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।