Log in

দুর্গাপুর : সাইবার প্রতারণার অভিযোগে দুর্গাপুরের কাদারোড এলাকা থেকে গ্রেফতার পাঁচ অভিযুক্তকে বুধবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করল দুর্গাপুর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার কাদারোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। এরপর তাঁদের থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের পরই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার কাদারোড এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগে অভিযান চালায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ। অভিযানের সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে গিয়ে আরও বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। তাঁদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখার পর পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে সাইবার প্রতারণার সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে। যদিও ঠিক কী ধরনের প্রতারণার সঙ্গে তাঁদের যোগ রয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে কত টাকা হাতানো হয়েছে কি না, কিংবা এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না—এই সমস্ত বিষয় এখনও তদন্তসাপেক্ষ বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে পেনড্রাইভ, এটিএম কার্ড, পাসবুক, হার্ডডিস্ক-সহ একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস। সাইবার প্রতারণার তদন্তে এই ধরনের ইলেকট্রনিক সামগ্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে তদন্তকারী দল।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলির সঙ্গে সাইবার প্রতারণার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে উদ্ধার হওয়া পেনড্রাইভ, হার্ডডিস্ক এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথি, লেনদেনের তথ্য অথবা প্রতারণা সংক্রান্ত কোনও সূত্র রয়েছে কি না, সেগুলি পরীক্ষা করে দেখার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এটিএম কার্ড এবং পাসবুকগুলিও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সমস্ত নথি ও কার্ডের মাধ্যমে কোনও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, একাধিক অ্যাকাউন্টের মধ্যে অর্থের আদানপ্রদান হয়েছে কি না, অথবা প্রতারণার টাকা কোথাও স্থানান্তর করা হয়েছে কি না—সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হতে পারে। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে ধৃতদের ইলেকট্রনিক ডিভাইসও। আধুনিক সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, হার্ডডিস্ক, পেনড্রাইভ-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। সেই কারণে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি খতিয়ে দেখে তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে পুলিশ। তবে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলির মধ্যে কোনও নির্দিষ্ট জিনিস থেকেই সাইবার প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি এখনও করেনি পুলিশ। তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি সামগ্রীর ব্যবহার এবং ধৃতদের সঙ্গে তার সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই পাঁচজনের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, তাঁদের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক এবং অন্য কারও সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকতে পারে।

সাইবার প্রতারণার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগ রয়েছে। প্রতারকরা নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কখনও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য, কখনও এটিএম বা অনলাইন লেনদেনের তথ্য, আবার কখনও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতারণা চালানোর অভিযোগ সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে কাদারোড থেকে পাঁচজনের গ্রেফতারির ঘটনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। মঙ্গলবারের অভিযানের পর বুধবার পাঁচ অভিযুক্তকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে পেশের পর তদন্তের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় কি না, কিংবা আদালতের নির্দেশে তদন্ত কীভাবে এগোয়, সেটিও পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে। পুলিশের লক্ষ্য এখন উদ্ধার হওয়া ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলি পরীক্ষা করে সম্ভাব্য সাইবার প্রতারণার সূত্র খুঁজে বের করা। পাশাপাশি ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা চক্র যুক্ত রয়েছে কি না, সেই তথ্যও সামনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে দুর্গাপুর থানায়। পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর তদন্তকারীদের হাতে বেশ কিছু সামগ্রী এলেও, সেগুলির প্রকৃত ব্যবহার এবং সাইবার প্রতারণার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এখনও তদন্তের বিষয়। ফলে তদন্ত যত এগোবে, ততই এই ঘটনার পিছনে থাকা সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন পুলিশের তদন্ত কোন পথে এগোয়, উদ্ধার হওয়া পেনড্রাইভ, এটিএম কার্ড, পাসবুক, হার্ডডিস্ক ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে কী কী তথ্য পাওয়া যায় এবং এই ঘটনায় আরও কারও যোগ রয়েছে কি না—সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল। আদালতে পাঁচ অভিযুক্তকে পেশ করার পর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর দুর্গাপুরবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *