Log in

দুর্গাপুর : রাস্তা যেন আর রাস্তা নেই। বর্ষা নামতেই কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও জমে রয়েছে জল, আবার কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। আর সেই বেহাল রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে একের পর এক পড়ুয়াকে। কাদা-জল আর খানাখন্দ পেরিয়ে সাইকেল নিয়ে স্কুলে যাওয়াই যেন এখন রীতিমতো ঝুঁকির হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার উপর এই রাস্তা দিয়েই নিয়মিত চলাচল করছে শিল্পাঞ্চলের ভারী যানবাহন। ফলে একদিকে যেমন পড়ুয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি, তেমনই বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এই বেহাল দশা চললেও স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবার পথে নামল স্কুল পড়ুয়ারাই। দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবিতে কাঁকসার বাঁশকোপা থেকে গোপালপুর যাওয়ার বেহাল রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় তারা। পড়ুয়াদের এই আন্দোলনকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় চাঞ্চল্য। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁশকোপা থেকে গোপালপুর যাওয়ার এই রাস্তা এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করে বহু মানুষ যাতায়াত করেন। পাশাপাশি গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং গোপালপুর বালিকা বিদ্যালয়ের বহু পড়ুয়াও সাইকেলে করে এই পথ দিয়েই স্কুলে পৌঁছয়। কিন্তু বর্ষা এলেই রাস্তার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির জল জমে রাস্তার বিভিন্ন অংশ কার্যত কাদার আস্তরণে ঢেকে যায়। কোথাও আবার রাস্তার বড় বড় গর্তে জল জমে যাওয়ায় বোঝারই উপায় থাকে না, গর্ত কতটা গভীর।

ফলে সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে পড়ুয়ারা। সামান্য অসাবধান হলেই সাইকেল পিছলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে। কাদা-জলের মধ্যে দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া এবং স্কুল ছুটির পর একই রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ। শুধু স্কুল পড়ুয়ারাই নন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় এলাকার সাধারণ মানুষকেও। বর্ষার সময় রাস্তার বিভিন্ন অংশে কাদা জমে থাকায় হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারী যানবাহনের চলাচল। শিল্পাঞ্চলের একাধিক ভারী যানবাহন নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে বলে অভিযোগ। ভারী গাড়ি চলাচলের ফলে রাস্তার ক্ষয় আরও বাড়ছে বলেই দাবি স্থানীয়দের। এর ফলে রাস্তার গর্ত ক্রমশ বড় হচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্ষার সময় পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হলেও বছরের অন্যান্য সময়েও রাস্তার বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ এবং ভাঙাচোরা অবস্থার সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ। একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও স্থায়ী সমাধান না মেলায় ক্ষোভ জমছিল এলাকাবাসীর মধ্যে। আর সেই ক্ষোভই এবার প্রকাশ্যে নিয়ে এল স্কুল পড়ুয়াদের আন্দোলন। রাস্তা সংস্কারের দাবিতে পড়ুয়ারা রাস্তায় বসে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। তাদের বক্তব্য, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে। শুধু সময়মতো স্কুলে পৌঁছনোর সমস্যা নয়, রাস্তার বেহাল দশার কারণে যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করতে হবে।

পড়ুয়াদের এই দাবির সঙ্গে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। এলাকার বাসিন্দা দ্বীপ দাসের অভিযোগ, বর্ষার সময় এই রাস্তার চেহারা দেখলে মনে হয় যেন ধানজমির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। রাস্তার কোথাও কাদা, কোথাও জল, আবার কোথাও বড় বড় গর্ত। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের চলাচল কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দ্রুত রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের আরও দাবি, শুধুমাত্র সাময়িকভাবে গর্তে মাটি বা কোনও উপকরণ ফেলে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করার পরিবর্তে স্থায়ীভাবে রাস্তার সংস্কার করতে হবে। কারণ প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই সমস্যার মুখে পড়তে হয় মানুষকে। তাই এমনভাবে রাস্তা তৈরি করতে হবে, যাতে বর্ষার জল জমে রাস্তা আবার দ্রুত নষ্ট না হয়ে যায়। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, রাস্তার সমস্যাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলাশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এখন প্রশ্ন একটাই—কবে মিলবে এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি? বর্ষার কাদা-জল আর গর্তের মধ্য দিয়েই কি আরও দিন স্কুলে যাতায়াত করতে হবে পড়ুয়াদের? নাকি দ্রুত শুরু হবে রাস্তা সংস্কারের কাজ? একদিকে পড়ুয়াদের নিরাপদে স্কুলে যাতায়াতের দাবি, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ—সব মিলিয়ে বাঁশকোপা থেকে গোপালপুর যাওয়ার এই রাস্তা এখন প্রশাসনের কাছে বড় প্রশ্ন। পড়ুয়াদের আন্দোলনের পর প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *