পরীক্ষক পদে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির নাম ! অভিযোগ নস্যাৎ কলেজ কর্তৃপক্ষের

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
ঝাড়গ্রাম : ইলেকট্রিক মিস্ত্রি পরীক্ষক! অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশে পুনরায় কলেজে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় কলেজে। কলেজের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। তবে পরীক্ষক হিসেবে ‘ইলেকট্রিক মিস্ত্রি’ হাজির থাকার অভিযোগে এবার সরাসরি প্রশ্নের মুখে ঝাড়গ্রাম জেলার সুবর্ণরেখা মহাবিদ্যালয়। বিষয়টি ঘিরে শিক্ষক, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। গোপীবল্লভপুরের সুবর্ণরেখা মহাবিদ্যালয়ে ‘সামার ইন্টার্নশিপ প্র্যাকটিক্যাল’ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য। স্নাতকস্তরের চতুর্থ সেমিস্টারের ওই পরীক্ষায় পরীক্ষক হিসেবে স্থানীয় এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রি উপস্থিত ছিলেন—এই মর্মে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে দাবি। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগপত্রে লক্ষীন্দর পালোই, পরিমল হাঁসদা, অরুণাভ প্রহরাজ-সহ কয়েকজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারী হিসেবে নাম জড়ানো অধ্যাপক লক্ষীন্দর পালোই বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, পরীক্ষার সময় যে এক্সটার্নাল এক্সামিনার উপস্থিত ছিলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত যোগ্য পরীক্ষক নন। কোনও ভাইভা ছাড়াই শুধুমাত্র উপস্থিতির ভিত্তিতে পরীক্ষা শেষ করা হয়েছে এবং গোটা প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছেন কয়েকজন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষাকর্মী।

Crowded room with people seated and standing.

২৯ অক্টোবর পরীক্ষা হলেও ২৮ নভেম্বর নম্বর আপলোডের শেষ দিনে পোর্টালে নম্বর তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, সুবর্ণরেখা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সিরাজ দত্ত বলেন, “নিয়ম বহির্ভূত কিছু হয়নি। পরীক্ষা নিয়ামকের সঙ্গে কথা হয়েছে।” কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করা হয়েছে। এদিকে, কলেজের ছাত্র শুভম প্রধান বলেন, “এই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকায় আমরা খুব সমস্যায় পড়ছি। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে আমাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।” অনান্য কলেজ পড়ুয়াদের অভিযোগ, পূর্বে নির্ধারিত দিনে মৌখিক পরীক্ষা দিতে গিয়ে তাঁরা দেখেন পরীক্ষক হিসেবে কেবল বঙ্গজিৎ সিংহই উপস্থিত ছিলেন। অন্য কোনও পরীক্ষক না থাকায় শেষ পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই শুধু খাতা জমা দিয়ে ফিরে যেতে হয় তাঁদের। অন্যদিকে, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই এক্সটার্নাল এক্সামিনার বঙ্গজিৎ সিংহ জানান, এই ঘটনায় তাঁর সম্মানহানি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং তাঁকে উপহাস করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। এই মর্মে তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশে পুনরায় কলেজে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিযুক্ত এক্সটার্নাল এক্সামিনার ও অবজারভার উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগে নাম জড়ানো বঙ্গজিৎ সিংহও ওই পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন। অবজারভারের কাছে কলেজের পড়ুয়ারা তাঁদের একাধিক সমস্যার কথাও তুলে ধরেন।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram