অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিয়ে আতঙ্ক চাঁকতেতুঁলে, দিল্লির বিস্ফোরণে উৎকণ্ঠায় চাষিরা

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
বুদবুদ : দিল্লির সাম্প্রতিক বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হয়েছে কৃষকদের অতি পরিচিত রাসায়নিক এমোনিয়াম নাইট্রেট। চাষের জমিতে নিয়মিত ব্যবহার হওয়া এই সারের নামই যখন বিস্ফোরক তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক কৃষি প্রধান এলাকাগুলিতে। বুদবুদ ব্লকের চাঁকতেতুঁল এলাকা জুড়ে কৃষকদের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন, “আমাদের ব্যবহারযোগ্য সার তৈরীর অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট যদি এমন কাজে লাগে, তবে আমরা কীভাবে সুরক্ষিত থাকব?” এই রাসায়নিক সার কৃষিতে অত্যন্ত কার্যকর। মাটিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি, গাছের পাতা শাখার বৃদ্ধি, সবুজ রং বজায় রাখা, ফলনের উন্নতি, সব ক্ষেত্রেই দারুণ কাজ করে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। ধান, গম, ভুট্টা, আখ, বিভিন্ন সবজির উৎপাদন বাড়াতে ব্যবহৃত হয় এই সার। সহজলভ্যতা এবং মাত্র ৬০ টাকা প্রতি কেজির বাজারদর হওয়ায় কৃষকদের কাছে এটি সবচেয়ে পছন্দের তালিকায়। জল এবং মাটিতে দ্রুত মিশে যাওয়ার ক্ষমতার কারণেও এর কদর যথেষ্ট। Open field with electricity poles and greenery কিন্তু দিল্লির ঘটনার পর নতুন করে দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ কৃষকদের কপালে। বিস্ফোরক (IED) তৈরিতে সারে ব্যবহৃত হওয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট অপব্যবহার হওয়ায় সাধারণ কৃষকদের মনেও নেমে এসেছে ভয়। চাঁকতেতুঁল এলাকার একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, “যা আমরা প্রতিদিন মাঠে কাজে লাগাই, তা যদি ভুল হাতে পড়ে বিপদের কারণ হয়, তবে আমাদেরও সচেতন থাকা জরুরি।” তাই এলাকার বহু কৃষকই চেয়েছেন একটি বিশেষ সচেতনতা শিবির, যেখানে সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য তাদের জানানো হবে। এই দাবি ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে রাজনৈতিক মহলও। শাসক বিরোধী উভয় পক্ষই কৃষি দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে সচেতনতা শিবির করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিজেপি নেতা গৌতম চক্রবর্তী বলেন, “গ্রামে গ্রামে কৃষকদের সচেতন করা এখন খুবই জরুরি। সারের সঠিক ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিয়ে কৃষকদের ধারণা বাড়াতে হবে।” অন্যদিকে কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য্য জানান, ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার কাঁকসার মলান–দীঘিতে কৃষকদের নিয়ে একটি বড়সড় সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হবে, যেখানে বিশেষজ্ঞরা বোঝাবেন কীভাবে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিরাপদে ব্যবহার করতে হবে, কী কী নিয়ম মানা জরুরি। এবং কোন পরিস্থিতিতে সতর্ক হওয়া দরকার।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram