গ্যাসের সংকটের আশঙ্কা, সিলিন্ডারের জন্য লম্বা লাইন !
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
বুদবুদ : মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির যোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর সেই আশঙ্কার জেরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতো পশ্চিম বর্ধমান জেলার বুদবুদের কোটা এলাকাতেও দেখা গেল গ্যাস সিলিন্ডার নেওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ফাঁকা সিলিন্ডার হাতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় কয়েকশো মানুষকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারের সামনে কার্যত উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর থেকেই এলাকার মানুষজন গ্যাস ডিলারের অফিস এবং গোডাউনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। অনেকেই ফাঁকা গ্যাস সিলিন্ডার হাতে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন যাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন সিলিন্ডার পাওয়া যায়। ধীরে ধীরে সেই লাইন এতটাই দীর্ঘ হয়ে যায় যে রাস্তার একাংশ পর্যন্ত মানুষের ভিড়ে ভরে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আগামী দিনে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই তারা আগেভাগেই সিলিন্ডার সংগ্রহ করে রাখতে চাইছেন। অনেকেই বলছেন, যদি হঠাৎ করে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বা কমে যায়, তাহলে রান্নার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই অনেক পরিবারই আগেভাগে সিলিন্ডার মজুত করে রাখার চেষ্টা করছেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সকালে খবর পাওয়ার পরই তিনি সিলিন্ডার নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। তাঁর কথায়, “যদি পরে গ্যাস না পাওয়া যায়, তাহলে বড় সমস্যায় পড়তে হবে। তাই আগে থেকেই নিয়ে রাখছি।” আরেকজন বাসিন্দা বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেভাবে খারাপ হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে গ্যাস ডিলারের কর্মীরাও জানান, সাধারণত প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক সিলিন্ডার বিতরণ করা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার মানুষের ভিড় স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদেরও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্বেগের পেছনে মূল কারণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে যে সংঘাত চলছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালীতে অনেক তেলের ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই রুটের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে থাকে। ভারতের ক্ষেত্রেও এই রুটের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। ফলে ওই এলাকায় যদি সংঘাত বা অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। তেলের দাম বেড়ে যায় এবং অনেক সময় সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটে। সেই প্রভাব ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষের জীবনেও। ভারতেও ইতিমধ্যেই সেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত সপ্তাহেই রান্নার গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৪ কেজির গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে ১১৫ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। এর পাশাপাশি গ্যাস বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি ২৫ দিন অন্তর একটি গ্যাস সিলিন্ডার বুক করা যাবে। অর্থাৎ, আগের তুলনায় দ্রুত সিলিন্ডার বুক করা এখন আর সম্ভব নয়। এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে সিলিন্ডার পাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই সমস্ত কারণ মিলিয়েই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন রান্নার জন্য এলপিজি গ্যাসের উপর নির্ভর করেন, তাদের মধ্যে এই উদ্বেগ আরও বেশি। তাই অনেকেই এখন থেকেই আগেভাগে সিলিন্ডার সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত মজুত করার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ একসঙ্গে অনেক মানুষ সিলিন্ডার নেওয়ার চেষ্টা করলে সরবরাহের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় এবং অন্যরা সমস্যায় পড়তে পারেন। তবুও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির খবর মানুষের মনে যে প্রভাব ফেলেছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আশঙ্কা আরও বেড়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার ধীরে ধীরে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়তে শুরু করেছে। বুদবুদের কোটা এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার নেওয়ার জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন। এখন সকলের নজর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে—কারণ সেই পরিস্থিতির উপরই অনেকটাই নির্ভর করছে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ এবং তার মূল্য।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই রুটের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে থাকে। ভারতের ক্ষেত্রেও এই রুটের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। ফলে ওই এলাকায় যদি সংঘাত বা অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। তেলের দাম বেড়ে যায় এবং অনেক সময় সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটে। সেই প্রভাব ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষের জীবনেও। ভারতেও ইতিমধ্যেই সেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত সপ্তাহেই রান্নার গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৪ কেজির গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে ১১৫ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। এর পাশাপাশি গ্যাস বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি ২৫ দিন অন্তর একটি গ্যাস সিলিন্ডার বুক করা যাবে। অর্থাৎ, আগের তুলনায় দ্রুত সিলিন্ডার বুক করা এখন আর সম্ভব নয়। এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে সিলিন্ডার পাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই সমস্ত কারণ মিলিয়েই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন রান্নার জন্য এলপিজি গ্যাসের উপর নির্ভর করেন, তাদের মধ্যে এই উদ্বেগ আরও বেশি। তাই অনেকেই এখন থেকেই আগেভাগে সিলিন্ডার সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত মজুত করার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ একসঙ্গে অনেক মানুষ সিলিন্ডার নেওয়ার চেষ্টা করলে সরবরাহের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় এবং অন্যরা সমস্যায় পড়তে পারেন। তবুও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির খবর মানুষের মনে যে প্রভাব ফেলেছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আশঙ্কা আরও বেড়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার ধীরে ধীরে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়তে শুরু করেছে। বুদবুদের কোটা এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার নেওয়ার জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন। এখন সকলের নজর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে—কারণ সেই পরিস্থিতির উপরই অনেকটাই নির্ভর করছে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ এবং তার মূল্য।
Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
