জলপাইগুড়ির হোল্ডিং সেন্টারে আরও ২১ বাংলাদেশি !

অন্যদিকে, বর্তমানে হোল্ডিং সেন্টারে থাকা ২৬ জনের নিরাপত্তার জন্য কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গোটা এলাকাজুড়ে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। হোল্ডিং সেন্টারের ভিতরে এবং বাইরে বসানো হয়েছে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। শুধু নিরাপত্তাই নয়, হোল্ডিং সেন্টারে থাকা ব্যক্তিদের জন্য থাকা-খাওয়ারও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুদের জন্য আলাদা নজরদারি এবং মহিলাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। মানবিক দিক মাথায় রেখেই তাঁদের অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই ২৬ জনের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে? তাঁদের সবাইকে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, নাকি অন্য কোনও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি পুলিশ বা জেলা প্রশাসন। ফলে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার বিতর্ক সামনে এসেছে। যদিও প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করার প্রয়োজন ছিল। আবার অন্যদিকে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে শিশু ও মহিলাদের উপস্থিতি থাকায় তাঁদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি নিয়ে নজর রাখছে প্রশাসন। বর্তমানে জলপাইগুড়ির আরটিসি হোল্ডিং সেন্টার এবং রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর হোল্ডিং সেন্টারকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রয়েছে। পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকরা নিয়মিত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। পাশাপাশি সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। সব মিলিয়ে, রাজ্যজুড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলা অভিযানের মধ্যে জলপাইগুড়িতে ২৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হোল্ডিং সেন্টারে রাখার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শিশু, মহিলা এবং পুরুষ মিলিয়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ রয়েছেন। এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের। পরিস্থিতি নিয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, নিরাপত্তা ও মানবিক দিক বজায় রেখেই সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
