রবীন্দ্র সরোবর পরিদর্শনে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা

পরিচ্ছন্নতা নিয়েও বেশ কিছু অভিযোগ উঠে আসে। অনেকেই জানান, অধিকাংশ জায়গা পরিষ্কার থাকলেও কিছু কিছু এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব চোখে পড়ে। আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর দাবিও ওঠে। মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন। এছাড়াও সাধারণ মানুষের একাংশ অভিযোগ করেন, আগে যেসব জায়গায় শিশু-কিশোর ও যুবকরা খেলাধুলা করতেন, তার মধ্যে কয়েকটি এলাকা বর্তমানে বন্ধ বা সীমিত ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে। ফলে খেলাধুলার সুযোগ কমে গিয়েছে বলে তাঁদের দাবি। বিষয়টি নিয়েও মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তাঁরা। অগ্নিমিত্রা পাল তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, রবীন্দ্র সরোবর শুধু একটি লেক নয়, এটি কলকাতার মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন এবং এই স্থানকে কেন্দ্র করেই তাঁদের জীবনের একটি বড় অংশ জড়িয়ে রয়েছে। তাই এই এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং নাগরিক সুবিধার উন্নয়নকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। মন্ত্রী আরও জানান, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে সমস্ত অভিযোগ এবং পরামর্শ পাওয়া গেছে, সেগুলি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা কর্মী বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেএমডিএ-র আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। কোথাও কোনও কাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে আছে কি না, অথবা কোনও সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন। সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং নাগরিকদের জন্য আরও উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন তিনি। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, মানুষের কাছ থেকে সরাসরি সমস্যার কথা শুনে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। রবীন্দ্র সরোবরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসরকে আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং নাগরিকবান্ধব করে তোলার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান। সব মিলিয়ে, বুধবারের এই আচমকা পরিদর্শনে রবীন্দ্র সরোবরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পেলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পরামর্শ এবং প্রত্যাশার ভিত্তিতে আগামী দিনে লেক এলাকার উন্নয়নে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। আর সেই কারণেই মন্ত্রীর এই সরেজমিন পরিদর্শনকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন প্রাতঃভ্রমণকারী থেকে শুরু করে শহরের নাগরিকরা।
