জোকা–এসপ্ল্যানেড মেট্রোয় বড় মাইলফলক, টিবিএম ‘দুর্গা’র সফল ব্রেকথ্রু

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
কলকাতা : জোকা–এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পের কাজে আরও এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল মেট্রো রেল কলকাতা। বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পের খিদিরপুর থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নির্মাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। টানেল বোরিং মেশিন বা টিবিএম ‘দুর্গা’ নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে সফলভাবে ব্রেকথ্রু করেছে। এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের অগ্রগতি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। টানেল বোরিং মেশিন বা টিবিএম হল এমন এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ঘনবসতিপূর্ণ শহরের নিচে নিরাপদে ও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সুড়ঙ্গ নির্মাণ করা সম্ভব হয়। কলকাতার মতো পুরনো এবং অত্যন্ত ব্যস্ত শহরে এই ধরনের কাজ অত্যন্ত জটিল। কারণ ভূগর্ভে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পাইপলাইন, নিকাশি ব্যবস্থা, বিদ্যুতের লাইন এবং বহু পুরনো স্থাপনার ভিত্তি। সেই সমস্ত বাধা অতিক্রম করেই সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে প্রকৌশলীদের। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খিদিরপুর থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত অংশটি পুরো প্রকল্পের অন্যতম কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং সেকশন। এই অংশে নিরাপত্তা বজায় রেখে নির্ভুলভাবে টানেল তৈরি করা ছিল সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। সেই কঠিন কাজই সফলভাবে সম্পন্ন করেছে টিবিএম ‘দুর্গা’। ব্রেকথ্রু বলতে বোঝায়, টানেল বোরিং মেশিন নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত ভেদ করে বেরিয়ে আসা। যে কোনও ভূগর্ভস্থ রেল প্রকল্পে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। কারণ এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, পরিকল্পনা অনুযায়ী সুড়ঙ্গ নির্মাণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সাফল্যকে স্মরণীয় করে তুলতে বিশেষ ব্রেকথ্রু অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছে মেট্রো রেল কলকাতা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মেট্রো রেলের শীর্ষ আধিকারিক, অভিজ্ঞ প্রকৌশলী, নির্মাণ সংস্থার প্রতিনিধিরা এবং প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু কর্মী। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রকৌশলীদের মতে, এই ধরনের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ নির্মাণের সময় প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হয়। টানেল বোরিং মেশিনের গতি, মাটির চাপ, জলস্তর, ভূগর্ভের গঠন—সবকিছুই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। সামান্য ভুলও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবলের সমন্বয়েই এই সফলতা এসেছে।
জোকা–এসপ্ল্যানেড মেট্রোয় বড় মাইলফলক, টিবিএম ‘দুর্গা’র সফল ব্রেকথ্রু
মেট্রো নির্মাণে নতুন মাইলফলক ! ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে সফল ব্রেকথ্রু

টিবিএম ‘দুর্গা’ দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছনোর ফলে এখন সুড়ঙ্গ নির্মাণের বড় একটি অধ্যায় শেষ হল। এর ফলে পরবর্তী ধাপে ট্র্যাক বসানো, বিদ্যুৎ সংযোগ, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, বায়ুচলাচল, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। জোকা–এসপ্ল্যানেড মেট্রো করিডর কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে। বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতা থেকে শহরের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লাগে। যানজট, সড়কের চাপ এবং অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হন হাজার হাজার মানুষ। এই মেট্রো চালু হলে সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের জন্য এই করিডর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কম সময়ে, নিরাপদে এবং আরামদায়কভাবে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি শহরের সড়কপথের উপর চাপও অনেকটাই কমবে। মেট্রো রেলের তরফে জানানো হয়েছে, প্রকল্পের বাকি কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত পরিকাঠামোগত কাজ শেষ করে যাত্রী পরিষেবা চালুর লক্ষ্যেই কাজ করছেন প্রকৌশলী এবং নির্মাণ সংস্থার কর্মীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতায় মেট্রো নেটওয়ার্ক যত বিস্তৃত হবে, ততই ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমবে। এতে যেমন যানজট কমবে, তেমনই পরিবেশ দূষণও অনেকটা হ্রাস পাবে। আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে শহর আরও টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে। শুধু পরিবহণ নয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন মেট্রো করিডরের আশেপাশের এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। কলকাতা মেট্রো ইতিমধ্যেই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগর পরিবহণ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ এই পরিষেবার উপর নির্ভর করেন। নতুন নতুন করিডর চালু হওয়ার ফলে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। খিদিরপুর থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত টিবিএম ‘দুর্গা’র সফল ব্রেকথ্রু সেই স্বপ্নপূরণের দিকেই আরও একটি দৃঢ় পদক্ষেপ। এই সাফল্য শুধু একটি সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার খবর নয়, বরং আধুনিক কলকাতার ভবিষ্যৎ যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রতীক।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram