ED থেকে বাঁচতেই কি ঋতব্রত তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ জেলার নেতাদের ?

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram
BEAURO REPORT : পশ্চিম বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির গ্রেপ্তারের পর। এই ঘটনাকে ঘিরে শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে এক নতুন সমীকরণ। জেলার শাসকদলের অন্দরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা, আর সেই আবহেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের আলোচনা। সূত্রের দাবি, মনোরঞ্জন মণ্ডলের গ্রেপ্তারের পর থেকেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার একাংশের তৃণমূল নেতাদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়তে শুরু করেছে। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নীরব অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি গ্রেপ্তারি এবং তদন্তের গতি সেই অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। জানা যাচ্ছে, মনোরঞ্জন মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই জেলার একাধিক তৃণমূল নেতার যোগাযোগ বেড়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত ‘নতুন তৃণমূল’-এর সঙ্গে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, দুর্গাপুর পুরসভার প্রায় ২৯ জন প্রাক্তন কাউন্সিলার ইতিমধ্যেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন এবং বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগও শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাননি। অন্যদিকে, শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ইস্তফার পর জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর পদত্যাগকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে হিসাব-নিকাশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাও জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্রের খবর, আসানসোল এলাকার তিনজন প্রাক্তন বিধায়কও নীরবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছেন। অতীতে ধৃত পুলিশ আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলেও রাজনৈতিক মহলের দাবি। সেই কারণেই নতুন করে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, কয়লা এবং বালি পাচার সংক্রান্ত মামলায় মনোরঞ্জন মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম উঠে এসেছে বলে আলোচনা চলছে। যদিও এই বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থা ইডির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এই দাবির সত্যতা নিয়ে সরকারি স্তরে কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ED থেকে বাঁচতেই কি ঋতব্রত তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ জেলার নেতাদের ?
নরেন্দ্রনাথের ইস্তফা, মনোরঞ্জন কাণ্ড—নতুন সমীকরণে পশ্চিম বর্ধমান

তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তদন্তের অগ্রগতি এবং নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা ঘিরেই জেলার একাধিক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সূত্রের খবর, যাঁদের নাম উঠে এসেছে বলে জল্পনা চলছে, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের কাছে খুব শীঘ্রই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পৌঁছতে পারে। যদিও এই বিষয়েও এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই। এই পরিস্থিতিতে জেলার রাজনৈতিক অন্দরে নানা ধরনের জল্পনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, ইডির সম্ভাব্য তদন্ত ও তলবের হাত থেকে বাঁচতেই অনেক নেতা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আবার অন্য একাংশের দাবি, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক পরিবর্তনের কারণেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের সহজে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। ফলে রাজনৈতিকভাবে নতুন আশ্রয় খুঁজতে গিয়ে অনেক নেতাকেই সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চল বরাবরই রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। কয়লা, বালি এবং শিল্পকে ঘিরে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই জেলার ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণ করে এসেছে। সেই কারণেই মনোরঞ্জন মণ্ডলের গ্রেপ্তারের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এখন শুধু জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, রাজ্য রাজনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ পশ্চিম বর্ধমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ইডির তদন্ত কোন দিকে এগোয়, আরও কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে তলব করা হয় কিনা, কিংবা রাজনৈতিক অবস্থান বদলের জল্পনা কতটা বাস্তব রূপ পায়—সেই দিকেই নজর থাকবে সকলের। তবে এই মুহূর্তে বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র থেকে নানা দাবি সামনে এলেও, তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং ভবিষ্যতের আইনি প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করবে। কারণ, শুধুমাত্র রাজনৈতিক মহলের আলোচনা বা সূত্রের দাবি নয়, তদন্তের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে পরবর্তী পদক্ষেপ। সব মিলিয়ে মনোরঞ্জন মণ্ডলের গ্রেপ্তারের পর পশ্চিম বর্ধমানের রাজনৈতিক আবহ যে দ্রুত বদলাচ্ছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। শাসকদলের অন্দরে অনিশ্চয়তা, নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য তদন্ত—সব মিলিয়ে এখন শিল্পাঞ্চলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। আগামী দিনে এই সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।

Facebook
Twitter
WhatsApp
Telegram