This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
কলকাতা : মঙ্গলবার সকাল, হঠাৎই আতঙ্কে ঢেকে যায় বিধাননগর-এর সল্টলেক এলাকা। করুণাময়ী সংলগ্ন আনন্দলোক হাসপাতাল-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সকালবেলায় যখন হাসপাতালের স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছিল, ঠিক সেই সময় আচমকাই দ্বিতীয় তলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। প্রথমে বিষয়টি ততটা গুরুতর মনে না হলেও, কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ক্রমশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা হাসপাতাল চত্বর। ধোঁয়ার তীব্রতায় ভিতরে থাকা রোগী, তাঁদের পরিজন এবং হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক। অনেকেই বুঝতে পারছিলেন না কীভাবে দ্রুত বাইরে বেরোবেন। কেউ দৌড়ে বেরিয়ে আসছেন, কেউ আবার রোগীদের নিয়ে নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন—চারদিকে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের দুটি ইঞ্জিন। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আরও দমকল বাহিনী মোতায়েন করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু হয় জোরদার অভিযান। তবে প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ঘন ধোঁয়া। দমকল কর্মীদের বিশেষ মাস্ক পরে হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করতে হয়, যাতে তারা নিরাপদে উদ্ধারকাজ চালাতে পারেন। ধোঁয়া বের করার জন্য হাসপাতালের একাধিক জানালার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। ভিতরে জমে থাকা ধোঁয়া দ্রুত বাইরে বের করার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাতে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমে এবং ভিতরে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করা সহজ হয়। এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ জন রোগীকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। হাসপাতালের পাশেই থাকা অন্য একটি ভবনে তাঁদের স্থানান্তর করা হয়। এই কাজে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অনেক রোগীকে স্ট্রেচারে করে বের করা হয়, কেউ হুইলচেয়ারে, আবার কেউ স্যালাইন চলাকালীন অবস্থাতেই বাইরে নিয়ে আসা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুত এবং সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়, যাতে কোনও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি না হয়। সবচেয়ে স্বস্তির খবর, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। হাসপাতাল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সকল রোগীকেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা সুরক্ষিত রয়েছেন। তবে এই ঘটনা যে বড়সড় বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারত, তা বলাই বাহুল্য।
সল্টলেকের আনন্দলোক হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক, দ্রুত উদ্ধার ৭০-৭৫ রোগী, বড় বিপদ এড়াল তৎপরতা
ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছতে কিছুটা দেরি করে। সেই সময় প্রথমে হাসপাতালের কর্মীরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও এগিয়ে আসেন এবং উদ্ধারকাজে সাহায্য করেন। এমনকি রোগীদের আত্মীয়দের একাংশও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিতরে ঢুকে প্রিয়জনদের বাইরে বের করে আনেন। এই মানবিক উদ্যোগ অনেক ক্ষেত্রেই বড় দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে একইসঙ্গে উঠে আসছে প্রশ্ন—হাসপাতালের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল? দমকলের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, হাসপাতালের কোনও একটি এসি ইউনিটে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। যদিও বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। ঠিক কী কারণে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিস্তারিতভাবে। এদিকে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ। হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছিল কি না, নিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছিল কি না—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে দায়িত্ব নির্ধারণ করে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সবসময় আপডেট থাকা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত মক ড্রিল এবং যন্ত্রপাতির পরীক্ষা না হলে এই ধরনের বিপদ মুহূর্তের মধ্যে বড় দুর্ঘটনায় পরিণত হতে পারে। এই ঘটনায় একদিকে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে, অন্যদিকে তেমনই সামনে এসেছে দ্রুত তৎপরতা এবং মানবিকতার দৃষ্টান্ত। দমকল কর্মীদের সাহসিকতা, হাসপাতাল কর্মীদের দায়িত্ববোধ এবং সাধারণ মানুষের সহায়তায় বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সব মিলিয়ে, বিধাননগর-এর এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, যে কোনও সময় বিপদ আসতে পারে। আর সেই বিপদ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকাই একমাত্র উপায়। এখন সকলের নজর তদন্তের দিকে—ঠিক কী কারণে এই আগুন লাগল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটাই দেখার।