This site uses cookies for analytics and to improve your experience. By clicking Accept, you consent to our use of cookies. Learn more in our privacy policy.
কলকাতা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সেই আবহেই কলকাতার ঐতিহাসিক Brigade Parade Ground-এ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রীর বিশাল জনসভা। দেশের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র এই সভাকে ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ঢল নেমেছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সব জায়গা থেকেই দলে দলে মানুষ ব্রিগেডমুখী হয়েছে। এই জনসমুদ্রের মধ্যেই উঠে এসেছে এক ব্যতিক্রমী গল্প। জলপাইগুড়ির এক যুবক কল্যাণ সরকার, যিনি রাজ্য সরকারের Banglar Yuva Sathi Scheme প্রকল্পের উপভোক্তা, তিনিও পৌঁছে গিয়েছেন ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভা শুনতে। কল্যাণ পেশায় একজন কৃষক এবং তিনি একজন স্নাতক যুবক। বর্তমানে তিনি বেকার ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা পান রাজ্যের যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে। সেই টাকাতেই তিনি কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে দাঁড়িয়ে কল্যাণ নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানান, ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-কে সামনে থেকে দেখার। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই তিনি ভাবছিলেন ব্রিগেডে যাবেন কি না। কিন্তু হাতে টাকা কম থাকায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দ্বিধায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত যখন তিনি দেখলেন যুবসাথী প্রকল্পের দেড় হাজার টাকা তার অ্যাকাউন্টে এসে গেছে, তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন কলকাতায় যাবেন। কল্যাণ বলেন, “আমি মোদিজির খুব বড় ভক্ত। ছোট থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল তাকে সামনে থেকে দেখব। কিন্তু টাকা কম থাকার কারণে আসব কি না বুঝতে পারছিলাম না। তারপর রাতে দেখি যুবসাথীর ১৫০০ টাকা আমার অ্যাকাউন্টে এসেছে। তখনই মনে সাহস পাই যে আমি যেতে পারব। ওই টাকাতেই আমার যাতায়াতের খরচ হয়ে গেছে। তাই সেই টাকা নিয়েই ব্রিগেডে চলে এসেছি। তিনি আরও বলেন, “আমি যুবসাথীর জন্য আবেদন করেছিলাম কারণ আমি পশ্চিমবঙ্গের একজন নাগরিক। আমি যেই রাজনৈতিক মতাদর্শই অনুসরণ করি না কেন, রাজ্যের মানুষ হিসেবে ওই প্রকল্পে আবেদন করা এবং টাকা পাওয়ার অধিকার আমার আছে। ওই টাকা তো আমাদেরই ট্যাক্সের টাকা থেকে আসে। তাই আমি মনে করি এই সুবিধা নেওয়া আমাদের অধিকার।” এই বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ একদিকে রাজ্য সরকারের একটি প্রকল্পের সুবিধাভোগী, অন্যদিকে তিনি আবার বিজেপির সভায় যোগ দিতে এসেছেন শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শুনতে। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। এদিকে ব্রিগেডের সভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কলকাতা এবং আশপাশের এলাকায় বাড়তে থাকে ভিড়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেন, বাস এবং ছোট গাড়িতে করে হাজার হাজার মানুষ এসে পৌঁছান। অনেকেই ভোরবেলায় বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছেন শুধু প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শোনার জন্য।
‘যুবসাথীর’ টাকায় ব্রিগেডে মোদিভক্ত, তুঙ্গে রাজনৈতিক চর্চা
প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র এই সভাকে ঘিরে নিরাপত্তার ব্যবস্থাও ছিল কড়া। প্রশাসনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সফরের নির্দিষ্ট সময়সূচি। সেই অনুযায়ী দুপুর ১টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর কথা রয়েছে। এরপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তিনি যাবেন রেস কোর্সের হেলিপ্যাডে। কলকাতার Kolkata Race Course-এর হেলিপ্যাডে নামার পর সেখান থেকে সরাসরি ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। জানা গেছে, প্রথমে তিনি একটি প্রশাসনিক সভায় অংশ নেবেন। এরপর মূল রাজনৈতিক মঞ্চে যোগ দিয়ে ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’-তে ভাষণ দেবেন। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই সভায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত থাকবেন। ইতিমধ্যেই বহু কর্মী-সমর্থক ব্রিগেডে পৌঁছে গিয়েছেন। কেউ এসেছেন উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার থেকে। আবার কেউ এসেছেন মালদা, মুর্শিদাবাদ বা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে। মালদা থেকে আসা এক বিজেপি সমর্থক জানান, তারা খুব ভোরে রওনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আজ সকালে আমরা কলকাতায় পৌঁছেছি। আমরা মনে করি পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন আসছে। সেই পরিবর্তনের সাক্ষী থাকতে এবং মোদিজির সভা শুনতে আমরা এখানে এসেছি। এটা আমাদের জন্য খুব বড় একটি মুহূর্ত। তিনি আরও বলেন, “২০১১ সালে আমরা একটা ভুল করেছিলাম। তখন আমরা দিদিকে ক্ষমতায় এনেছিলাম। এখন আমরা সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই। তাই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আমরা চাই পরিবর্তনের সূচনা হোক। সেই কারণেই আমরা মোদিজির সভায় উপস্থিত হয়েছি। ”ব্রিগেডে উপস্থিত আরেক বিজেপি সমর্থক জানান, তারা মূলত রাজ্যের উন্নয়নের দাবি নিয়েই এখানে এসেছেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন হোক। বিশেষ করে বেকার যুবকদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা হোক। অনেক গরিব ছেলে আছে যারা কাজ পাচ্ছে না। আমরা চাই তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হোক। ”রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিগেডের এই সভা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঐতিহাসিকভাবে Brigade Parade Ground পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি প্রতীকী মঞ্চ হিসেবে পরিচিত। বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখান থেকেই তাদের শক্তি প্রদর্শন করে থাকে। এই সভায় প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi কী বার্তা দেন, বিশেষ করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি কী বলেন—সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপির দাবি, এই সভা থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের নতুন বার্তা যাবে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলিও এই সভার দিকে নজর রাখছে। তাদের মতে, ব্রিগেডের জনসমাগমকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করবে বিজেপি। ফলে আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে এই সভার প্রভাব কতটা পড়ে, তা সময়ই বলবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ব্রিগেডের সভাকে ঘিরে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। আর সেই জনসমুদ্রের মধ্যেই উঠে এসেছে জলপাইগুড়ির যুবক কল্যাণ সরকারের মতো মানুষের গল্প, যা আবারও প্রমাণ করে যে রাজনীতির ময়দানে ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষা, আবেগ এবং বাস্তবতার এক অদ্ভুত মিশেল তৈরি হয়।